১৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৩:১৮

মাদকের তালিকায় নাম এলেই সে দোষী হয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি - সংগৃহীত

ছবি - সংগৃহীত

আমাদের কাগজ ডেস্কঃ কক্সবাজারের মাদক কারবারিদের নিয়ে সদ্য প্রকাশিত তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

তিনি বলেন, আমাদের বিভিন্ন সেক্টর থেকে অনেক ইনফরমেশন পাই। তা যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যে তালিকা এখন পাওয়া গেছে, তা নিয়েও যাচাই-বাছাই চলছে। কেউ তালিকায় নাম এলো বলে দোষী হয়ে যায়নি। সব বিষয় তদন্ত করে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। 

বৈঠকে বিগত ২৫তম ভার কার্যবিবরণী নিশ্চিতকরণ, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধকল্পে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ এ অঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় বিজিবি এবং কোস্টগার্ডের কার্যক্রমের ওপর বিস্তারিত আলোচনাসহ বিবিধ বিষয় এজেন্ডায় রাখা হয়

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি কমিটির একজন সদস্য মাত্র। বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো কমিটির সভাপতি উপস্থাপন করবেন। বৈঠক এখনো চলমান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেনজীর আহমদের সভাপতিত্বে চলমান বৈঠকে কমিটির সদস্য সংসদ সদস্য মো. আফছারুল আমীন, মো. হাবিবর রহমান, সামছুল আলম দুদু, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পীর ফজলুর রহমান, নূর মোহাম্মদ, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ও বেগম রুমানা আলী, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরানসহ শৃঙ্খলাবাহিনীর বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা সভাস্থলে আসেন।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজার আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শনিবার তিনি শাহপরীরদ্বীপ সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। একই দিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ৩৪ বিজিবির অধীনস্থ বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তের ফ্রেন্ডশিপ লালব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করেন।

প্রসঙ্গত, দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার এখন ইয়াবা পাচারকারী চক্রগুলির নিরাপদ স্বর্গ।  মাদক ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড ঘটছে প্রতিনিয়ত। 

সবচেয়ে গুরুতর অবশ্য মাদক ব্যবসা। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ দপ্তরের তথ্যমতে, ২০২১ সালে দক্ষিণপূর্ব ও পূর্ব এশিয়ায় প্রথমবারের মতো- মোট ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের মেথামফেটিন ট্যাবলেট বাজেয়াপ্ত করার রেকর্ড হয়েছে। ১০ বছর আগের তুলনায় যাত সাতগুণ বেশি। 

২০১৮ সালে মাদকবিরোধী অভিযানকালে শুধুমাত্র বাংলাদেশেই ১ কোটি ২৮ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট বাজেয়াপ্ত করা হয়। এই অভিযানের সময় এক লাখের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।  আর বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় ৫১৯ জন। 

২০২২ বছরের জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে ৩৮ লাখ পিস মেথামফেটিন বা মেথ ট্যাবলেট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কিন্তু, এই জব্দ করা ট্যাবলেটের পরিমাণ আসল বাণিজ্যের হিমশৈলের চূড়ামাত্র। অর্থাৎ, যত ট্যাবলেট পাচার হয়ে আসছে তার সামান্য পরিমাণ চালানই ধরা পড়ছে বলে জানান আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্টরা।সূত্র: দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড   

আমাদের  কাগজ/এমটি 

আরো খবর