ছবি - সংগৃহীত
আমাদের কাগজ ডেস্কঃ সাকরাইন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলোর মধ্যে একটি।এ উৎসবকে ঘিরে প্রায় একমাস আগে থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। বিশেষ করে এ এলাকার দোকানিদের ঘুড়ি এবং ফানুস বানানোর তোড়জোড় শুরু হয়। তবে গত কয়েক বছর করোনার কারণে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ উৎসবের চিত্র অনেকটা বদলে গেছে।
সন্ধ্যায় আতশবাজি ও রঙ-বেরঙের ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে উৎসব উদযাপন করা হয়। কিন্তু এই আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানোর কারণে প্রতিবছরই ছোট-বড় অনেক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এ অবস্থায় দুর্ঘটনা এড়াতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কঠোর বিধিনিষেধ দিয়েছে। রাজধানীবাসী যেন ফানুস ওড়ানো ও দোকানিরা যেন ফানুস বিক্রি না করতে পারে সেই জন্য বিভিন্ন থানায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এ উৎসব উদযাপনের কয়েকদিন আগে থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছে ডিএমপি। বিশেষ করে এই রাতে যেন বিস্ফোরক দ্রব্য, আতশবাজি বা ফানুস ওড়ানো বন্ধ থাকে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ব্যাপারে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ফানুস ওড়ানো ও বিক্রি বন্ধে থানায় থানায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুরান ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি মার্কেটের ব্যবসায়ীদের আমরা ভাল করে বুঝিয়েছি যেন কেউ ফানুস বিক্রি করতে না পারে।
প্রসঙ্গত, বাংলা পৌষ মাসের শেষ ও মাঘ মাসের শুরুতে পুরান ঢাকাবাসী আয়োজন করে ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব। সারাদিন সবাই মিলে ঘুড়ি ওড়ায়।
এছাড়া আতশবাজির বিকট শব্দে হৃদরোগে আক্রান্ত তানজীম উমায়ের নামে ৪ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এ মৃত্যুর ঘটনা এবং একাধিক অগ্নিকাণ্ড ঘটায় ফানুস ওড়ানো নিষিদ্ধের দাবি ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) সরেজমিনে পুরান ঢাকার শাঁখারি বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এখানকার প্রতিটা দোকানেই ঝুলছে ছোট-বড় বিভিন্ন সাইজের ঘুড়ি। তবে সহজে মিলছে না ফানুস। দোকানিরা বলছেন, থানাপুলিশ ফানুস বিক্রি করতে নিষেধ করেছে। এলাকায় মাইকিংও করেছে। তাই তারা প্রকাশ্যে ফানুস বিক্রি করছেন না।
আমাদের কাগজ/ এম টি