প্রস্তুত ইজতেমা ময়দান
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার অদূরে টঙ্গীর তুরাগ তীরের বিশাল সবুজ চত্বর এখন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের বরণের অপেক্ষায়। আগামী শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) এখানে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। ইতোমেধ্যেই এর যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
ইজতেমার কর্মসূচিতে রয়েছে আম ও খাস বয়ান, ছয় উছুলের হাকিকত, দরসে কোরআন, দরসে হাদিস, তাশকিল, তালিম, বিষয়ভিত্তিক আলোচনা। এছাড়া রয়েছে পেশাভিত্তিক আলোচনা, নতুন জামাত তৈরি, চিল্লায় নাম লেখানো ও যৌতুকবিহীন বিয়ের মতো নানা আনুষ্ঠানিকতা।
আগামীকাল বুধবার (১০ জানুয়ারি) থেকে দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠে আসতে শুরু করবেন। ১৬০ একর এলাকাজুড়ে নির্মিত চটের প্যান্ডেল ৯০টি খেত্তায় ভাগ করা হয়েছে। সেখানে ৬৪ জেলার মুসল্লিদের জন্য স্থান নির্ধারণ করে খুঁটি নম্বর লাগানো হয়েছে। মাঠের উত্তর-পশ্চিম দিকে প্রায় পঁচিশ হাজার বিদেশি মেহমানের জন্য পাঁচটি আন্তর্জাতিক নিবাস তৈরি করা হয়েছে। মাঠের প্রবেশপথগুলোতে ইতোমধ্যেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে।
তাবলীগ মারকাজের নিয়ম অনুযায়ী, সভাপতি ও প্রধান অতিথিবিহীন এই মহাসমাবেশ কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ছাড়াই শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। তিন দিনের আয়োজনের প্রথম পর্ব শুক্রবার শুরু হলেও আগের দিন বৃহস্পতিবার বাদ জোহর থেকে আগতদের ইবাদতে শামিল হতে খাস বয়ান চলবে।
এই দফার ইজতেমার আয়োজক মাওলানা যোবায়েরের অনুসারীরা। অন্যদিকে, ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে মাওলানা সাদ কান্ধালবীর অনুসারীদের তিন দিনব্যাপী দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা। উভয় পর্বে তাবলিগ মারকাজের শীর্ষ ওলামায়ে কেরামসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন দেশ থেকে সাড়ে তিন সহস্রাধিক বিদেশি অতিথি দেশে পৌঁছেছেন। তারা রাজধানীর কাকরাইল মসজিদ ও টঙ্গীর আশপাশের মসজিদগুলোতে দাওয়াতি কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
তাবলিগের দুই পক্ষের সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, পরস্পরবিরোধী দুই পক্ষ একসঙ্গে ইজতেমা ময়দানে অবস্থান করবে না। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার পর ১৬ জানুয়ারি যোবায়েরপন্থীরা মাঠ ছাড়বেন। মুসল্লিশূন্য চারদিন ময়দানে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ চলবে। ১৯ জানুয়ারি বিকাল থেকে সাদ অনুসারীরা ইজতেমা মাঠে আসতে শুরু করবেন। ২৩ জানুয়ারি থেকে সাধারণ প্যান্ডেল ও আন্তর্জাতিক নিবাস খুলে ফেলার কাজ শুরু করবে যোবায়ের অনুসারীরা।
তাবলিগ জামাতের বিবদমান দুই গ্রুপের মারমূখী অবস্থানসহ নানা দিক বিবেচনায় এবার আগের বছরগুলোর চেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
প্রথম পর্বে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের নিজ নিজ খেত্তায় অবস্থানের জন্য ইজতেমার প্রকৌশল বিভাগ একটি দিক নির্দেশনা দিয়েছে।
আমাদেরকাগজ/এইচএম
