আ.লীগের সামনে একের পর এক চ্যালেঞ্জ, যেমন কাটবে ২০২৩
ছবি - সংগৃহীত
আমাদের কাগজ ডেস্কঃ স্বপ্নের ২০২৩ সালকে সামনে রেখে,নতুন আশায় বুক বাঁধছে আওয়ামী লীগ। ধারণা করা হচ্ছে, দেশের রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বছর হবে এটি। চলতি বছর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য নেওয়া হবে সবধরনের প্রস্তুতি। বছরের শেষদিকে অথবা পরের বছরের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
২০২৩ কে স্বাগতম জানিয়ে বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত করছেন। চলতি বছর ‘নির্বাচনী বছর’ এ হিসেবে রাজনীতির অঙ্গনে যেমন পরিচিতি বাড়ছে। তেমনি ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলো ব্যস্ত থাকবে নির্বাচনী সমীকরণ নিয়ে।
এদিকে সমীক্ষা অনুযায়ী বলাই চলে, আগামী নির্বাচন ঘিরে এখন থেকে সক্রিয় ক্ষমতাসীনরা। এতদিন জাতীয় সম্মেলন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও এখন তাদের মনোযোগ নির্বাচন-কেন্দ্রিক। বছরজুড়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, ভোটারের মন জয়ে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি, নির্বাচনী ইশতেহার ও ঘোষণাপত্র তৈরিতে ব্যস্ত থাকার পরিকল্পনা করছে দলটি।
নির্বাচনী বছরে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে বড় বড় জনসভা, সমাবেশ কিংবা দলের বর্ধিত সভার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে যাওয়ার কৌশল নির্ধারণ করবে দলটি। এছাড়া দেশের সব বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা ভাবছে ক্ষমতাসীনরা।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানান উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে চলছে নির্বাচন প্রস্তুতি। সবশেষ এবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিলেও নেতাদের অংশ নেয়া ঠেকাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন।গতকাল শুক্রবার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি ।
তিনি বলেন, বিএনপির সিদ্ধান্তগুলো আসে সমুদ্রের ওপার থেকে। যিনি বা যারা দেন বাংলাদেশের বাস্তবতা সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। তারা ১৫-১৬ বছর ধরে দেশের বাইরে। দেশের পরিস্থিতি কী সে ব্যপারে তাদের ধারণা নেই। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, সংসদ থেকে বিএনপির পদত্যাগ করা একটি অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির অনেকেই মনে করেন ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা এবং প্রতিহত করার যে অপচেষ্টা করেছিল সেটি ভুল ছিল। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা না করার দোলাচলের মধ্যে থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটাও ভুল সিদ্ধান্ত। তাদের সংসদ সদস্যদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এই পদত্যাগ বিএনপির জন্য শুভ হয়নি। আব্দুর সাত্তারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে এটাই বোঝা যায়, ভবিষ্যতে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও তাদের নেতাদের অংশগ্রহণ ঠেকানো যাবে না।
জানা গেছে, নতুন বছরে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ সব দল নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকবে। বর্তমান প্রেক্ষাপট এমন বার্তাই দিচ্ছে। নির্বাচন সামনে রেখে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে দলগুলো।
প্রসঙ্গত, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ যেমন চাইবে টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করতে, তেমনি দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির চাওয়া ক্ষমতায় আসীন হওয়া। তারা এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা না করলেও বেশ শক্ত বাঁধনে যে ক্ষমতার সঙ্গী হতে চায়, তা অনেকটা স্পষ্ট। এছাড়া ছোট ছোট রাজনৈতিক দলও ক্ষমতার অংশীদার হতে চেষ্টা চালাবে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করতে গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে ক্ষমতাসীন দলকে। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচনে আনতে হবে। এ বিষয়ে প্রভাবশালী এক দেশের কূটনীতিক বেশ তৎপর। ভোট, গণতন্ত্রসহ নানা ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা চলছে। এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসাই হবে ক্ষমতাসীন দলের নতুন নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
এরই মধ্যে বিভিন্ন পরাশক্তি যেমন- যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জাপান, জার্মানিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এসব দাবি পূরণও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন তত ঘনীভূত হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই তীব্রতর আন্দোলন মোকাবিলায় রাজপথে কলহমুক্ত ও ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রয়োজন। এ বিষয়ে দলটির সক্রিয় অবস্থান নেওয়াও অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।
চ্যালেঞ্জের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, বিরোধী দল যে আন্দোলন, অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র করছে; সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে— এটা মোকাবিলাই দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
‘জনগণের কাছে বিনয়ী হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যে উন্নয়নের মহাসড়কে— বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। এখন জনগণকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ করাই আমাদের কাজ। আমরা এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করি।’
সম্প্রতি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিশ্বপরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশও সংকটে আছে। জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, বিএনপির নেতৃত্বে সরকার হটানোর আন্দোলন— সবকিছু মিলিয়ে আওয়ামী লীগের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ। এগুলো মোকাবিলায় নেতৃত্বে অভিজ্ঞদের রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের সভানেত্রী।’
চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সবুর বলেন, ‘দীর্ঘ ৭৩ বছর আওয়ামী লীগ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে গেছে। আগামী দ্বাদশ নির্বাচনের আগেও কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। বিএনপি-জামায়াত ও জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর সব অপপ্রচার মোকাবিলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আমরা এগুলো মোকাবিলা করব।’
আমাদের কাগজ/এম টি
