ছবি - সংগৃহীত
আমাদের কাগজ ডেস্কঃ নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি নূর হোসেনকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখতে আদালতে আবেদন করেছেন তার আইনজীবী।
বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক শামী আখতারের আদালতে নূর হোসেনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন এই আবেদন করেছেন। পরে আদালত আবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে নথিভুক্ত করার আদেশ দেন।
এ বিষয়ে নূর হোসেনের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন বলেন, আমরা আদালতের কাছে আবেদন করেছি নূর হোসেনকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখার জন্য। কাশিমপুর কারাগার থেকে তাকে নিয়ে আসতে অনেক সময় লেগে যায়।
তিনি আরও বলেন, নূর হোসেন বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। সে হিসেবে তাকে ঢাকা রাখলেই সুবিধা হয়।
এছাড়াও তার পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে যথাসময়ে নারায়ণগঞ্জ উপস্থিত হতে পারে না। আমরা আবেদন করেছি সেটা আদালত বিবেচনা করবে।
২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত সাত খুনের মামলায় সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন, সাবেক র্যাব কর্মকর্তা সহ মোট ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ে নূর হোসেনের নয়জন সহযোগী এবং সাবেক র্যাব সদস্যদেরও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।বিচারক রায়ে বলেন, অপহরণ, হত্যা, লাশ গোপন করা, ষড়যন্ত্র এবং প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ কোন সন্দেহ ছাড়াই প্রমাণিত হয়েছে।
সাত খুন মামলার অন্য আসামিরা হলেন, মোস্তফা জামান চার্চিল, রিপন ওরফে ভ্যানিজ রিপন, আলী মাহমুদ, নুরুদ্দিন, শাহ জালাল বাদল, শাহ জাহান, সানাউল্লাহ, হারুন অর রশিদ ও মাসুদ।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন আরও জানান, নূর হোসেনকে কাশিমপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে আনা হয়েছিল। সাক্ষীরা না আসায় তাকে আদালতে উঠানো হয়নি। দুই আদালতে দুটি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য্য করা হয়েছিল।
এ ব্যাপারে আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জাসমিন আহমেদ জানান, তার (নূর) বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য্য করা হয়েছিল। সাক্ষীরা না আসায় তাকে আদালতে তোলা হয়নি। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের আবেদন করেছেন। আদালত এই বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি।
এর আগে ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়র জজ আদালত এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) আদালতে দুটি মামলায় স্বাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছিল। ওইদিন মামলার সাক্ষীরাও উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু নূর হোসেন অসুস্থ থাকায় তাকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে আনা হয়নি। ফলে সাক্ষ্যগ্রহণও সম্ভব হয়নি। ৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুন্সি মো. মশিয়ার রহমানের আদালত তার (নূর) বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা একটি মাদক ও অস্ত্র মামলায় চার্জ গঠনের নির্দেশ দেন।
আমাদের কাগজ/এম টি