ছবি - সংগৃহীত
আমাদের কাগজ ডেস্কঃ এক যুগ পর আবারও ফিরে এল প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা। মাসখানেক আগে হুট করে নতুন পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে তড়িঘড়ি করে তারিখ ঘোষণাকে অপরিকল্পিত বলছেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। আর শিক্ষাবিদরা বলছেন, নতুন শিক্ষাক্রমে পরীক্ষা কমানোর কথা বলা হলেও হুট করে এমন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ বাড়বে।
গতকাল শুক্রবার সারাদেশে একযোগে এ বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানা যায়, চারটি বিষয়ে ২৫ করে মোট ১০০ নম্বরে দুই ঘণ্টার বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রতিটি বিষয় থেকে ১৫টি এমসিকিউ ও একটি রচনামূলক প্রশ্ন ছিল। পরীক্ষার ফি ছিল ৫০ টাকা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬ লাখ (পঞ্চম শ্রেণির ২০ শতাংশ) শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর মধ্য থেকে যোগ্য ৩৩ হাজার জন মেধা বৃত্তি ও ৪৯ হাজার ৫০০ জন সাধারণ বৃত্তি পাবে।
সবশেষ ২০০৮ সালে প্রাথমিকে বৃত্তি পরীক্ষা হয়েছিল। এরপর ২০০৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) শুরু করে সরকার।
প্রসঙ্গত, সর্বশেষ প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা হয় ২০১৯ সালে। ওই ফলাফলের ভিত্তিতে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে বৃত্তির জন্য নির্বাচিত ৮০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয়। মহামারীর কারণে গেল দুই বছর প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা হয়নি। পরে জানানো হয়, নতুন শিক্ষাক্রম চালু হতে যাওয়ায় সমাপনী পরীক্ষা আর নেওয়া হবে না।
আগামী বছর থেকে ধাপে ধাপে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। প্রাথমিকের প্রথম ও শ্রেণি এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে এই শিক্ষাক্রম শুরু হবে।
শিখন কার্যক্রমকে আনন্দময় ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক করতে নতুন শিক্ষাক্রমে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে পরীক্ষার চাপ কমানোর রূপরেখা দিয়েছে সরকার।
নতুন শিক্ষাক্রমে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী এবং অষ্টম শ্রেণিতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার কোনোটিই নেই।
এ পরিস্থিতিতে প্রাথমিকে মেধা বৃত্তির জন্য যোগ্য শিক্ষার্থী বাছাই করতে আবারও আলাদা পরীক্ষার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনায় শিক্ষাবিদসহ বিশিষ্ট নাগরিকদের অনেকেই উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। এই পরীক্ষার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে গণমাধ্যমে বিবৃতিও এসেছিল। তবে সরকার তাতে সাড়া দেয়নি।
গত ২৮ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে মেধাবৃত্তি দেয়ার বিকল্প মেধা যাচাই পদ্ধতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়। সভায় বর্তমান প্রচলিত নিয়ম ও পদ্ধতিতে প্রাথমিক বৃত্তি দেওয়া অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরও সরকারের এ পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা নেই। তাই প্রচলিত নিয়ম ও পদ্ধতিতে আলাদা বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আমাদের কাগজ/এম টি