ছবি - সংগৃহীত
আমাদের কাগজ ডেস্কঃ ভারতের তৈরি কাশির সিরাপে উজবেকিস্তানে ১৮ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ায় একই ধরণের কাশির সিরাপ সেবনে ৬৬ শিশুর মৃত্যু অভিযোগ উঠেছিলো।
এরপর ভারতে তৈরি চারটি সর্দি-কাশির সিরাপ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) উজবেকিস্তানের স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘ম্যারিয়ন বায়োটেক প্রাইভেট লিমিটেডের’ তৈরি কাশির সিরাপ সেবনে এখন পর্যন্ত ১৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ডক-১ ম্যাক্স নামের সিরাপটি ২১ জন শিশু গ্রহণ করেছিল, এর মধ্যে ১৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
উজবেকিস্তানের স্বাস্থ্য দফতর বুধবার জানিয়েছে, ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘ম্যারিয়ন বায়োটেক প্রাইভেট লিমিটেডের’ তৈরি কাশির সিরাপ সেবনে এখন পর্যন্ত ১৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ডক-১ ম্যাক্স নামের সিরাপটি ২১ জন শিশু গ্রহণ করেছিল, এর মধ্যে ১৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ওষুধটি প্রস্তুতকারক কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেখা যায়, এটি সর্দি ও ফ্লু’র উপসর্গের চিকিৎসা হিসেবে বাজারজাত করা হয়।
সিরাপটির একটি ব্যাচে ইথিলিন গ্লাইকোলের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এটি এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ বলে জানিয়েছে উজবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে- ওই কাশির সিরাপে প্যারাসিটামলের মাত্রায় গরমিলের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গাম্বিয়ায় সর্দি-কাশির সিরাপে অস্বাভাবিক মাত্রায় ডাইথিলিন গ্রাইকল এবং এথিলিন গ্লাইকলের উপস্থিতির কারণে কিডনি বিকল হয়ে ৬৬ শিশুর মৃত্যু হয়। গত অক্টোবরে গাম্বিয়ার ওই ঘটনায় অভিযোগ ছিল, ভারতীয় সংস্থা মেইডেন ফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি চার ধরনের কাশির সিরাপের দিকে। সিরাপগুলো হলো- প্রোমেথাজিন ওরাল সলিউশন, কফেক্সমালিন বেবি কফ সিরাপ, মাকফ বেবি কফ সিরাপ এবং ম্যাগ্রিপ এন কোল্ড সিরাপ।
এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস অ্যাডানম গেব্রিয়েসাস সংবাদ সম্মেলনে ওই সংস্থার তৈরি সর্দি-কাশির সিরাপ নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছিলেন। ভারতের হরিয়ানা-ভিত্তিক ‘মেইডেন ফার্মাসিউটিক্যালসের’ তৈরি ওই সিরাপগুলো সেবনের ফলে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের কিডনিতে ক্ষত হওয়া অথবা কিডনি বিকল হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল। সূত্র – আলজাজিরা
উল্লেখ্য, নজিরবিহীন ও ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই বাড়িতে ফার্মাসিস্টের পরামর্শে পিতা-মাতা শিশেুগুলোকে এই সিরাপ দেয় বলে জানা যায়। শিশুদের জন্য নির্ধারিত ডোজের চেয়ে বেশি পরিমাণে প্রয়োগ করা হয়েছিল।
আমাদের কাগজ/এম টি