৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১১:৪০

মহাত্মা গান্ধীর বিকৃত যৌনাচার চর্চা

ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর রয়েছে দেশের জন্য সংগ্রাম করার দীর্ঘ ইতিহাস। ছোটখাটো কিছু বিষয় বাদে মোটা দাগে তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক নেতা। ভারতবর্ষে সকল ধর্মেই তার ভক্ত অনুরাগী দেখতে পাওয়া যায়। 

কিন্তু তার জীবনেও রয়েছে যৌনাচারের এক বিরাট অন্ধকার দিক। সম্প্রতি গান্ধীর এক নতুন জীবনীগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে নারী অধিকার, যৌনতা এবং কৌমার্য নিয়ে গান্ধীর চিন্তা ভাবনার বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছেন ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ। 

সেই বইতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে গান্ধী এমন কি নিজের নাতনীকে নিয়েও বিছানায় যেতেন, নিজের যৌন তাড়নার গভীরতা পরীক্ষা করতে। ঠিক এইরকম ঘটনাই ঘটেছিলো যখন দাঙ্গা ঠেকাতে গান্ধী নোয়াখালী এসেছিলেন। 

এছাড়াও তিনি যতই নিজেকে অসাম্প্রদায়িক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করুক না কেন? তিনি নারীদের বিষয়ে ছিলেন যথেষ্ট সাম্প্রদায়িক। তিনি নারীদের বোরকা পড়ার ঘোর বিরোধী ছিলেন। এমন কি পাশ্চাত্যের পোশাকেও তার আপত্তি ছিলো। তিনি শুধু হিন্দুয়ানী পোশাকই নারীদের জন্য যথার্থ মনে করতেন। নারীদের বিষয়ে তার চিন্তা ভাবনা ছিলো মধ্যযুগের  জৈন সাধুদের মত।

সম্প্রতি গান্ধীর কৌমার্যব্রত-চর্চার সঙ্গী মানু গান্ধীর ডায়েরির কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়েছে ‘ইন্ডিয়া টুডে’ সাময়িকীতে। সেখানে তিনি গান্ধীকে, মা হিসেবে উল্লেখ করে লিখেন, গান্ধীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়ে মানু ডায়েরিতে লিখেছেন: ‘বাপু (মোহনদাসকে এ নামে ডাকা হতো) আমার মা। তিনি তাঁর চরিত্র গঠনের মহাযজ্ঞের ব্রহ্মাচর্য পালনের অংশে আমাকে সঙ্গী করে মানবজীবনের এক উচ্চতায় উন্নীত করেছেন। এই চর্চার বিষয়ে যেকোনো চটুল আলাপ নিষিদ্ধ। একজন মা তাঁর মেয়ের জন্য যা কিছু করেন, তিনি (মোহনদাস) তাঁর (মানু) জন্য তা-ই করতেন। তিনি তাঁর পড়াশোনার খবর রাখতেন; খাবার, পোশাক, বিশ্রাম ও ঘুমের তদারক করতেন। ভালোভাবে দেখভালের জন্য তিনি তাঁর সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমাতেন। একজন পরিণত নারী হিসেবে (যদিও সে নির্মল) মায়ের সঙ্গে ঘুমাতে সে লজ্জা বোধ করত না।’ ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে মানু তাঁর (মোহনদাসের) দেহ মালিশ করে দিত, গোসল করিয়ে দিত এবং তাঁর জন্য রান্নাও করত।’

এতেই স্পষ্ট হয় যে কৌমার্য চর্চার নামে গান্ধী তার নারী সঙ্গিনীদের সাথে কি করতেন?

গান্ধীর কৌমার্যব্রত নিয়ে একই রকম আপত্তি করেছিলেন তাঁর সচিব আর পি পরশুরাম ও নির্মল কুমার বসু। গান্ধী যখন মানুকে সঙ্গে নিয়ে নোয়াখালী আসেন, তখন এ দুজন গান্ধীর চর্চা নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলেন। একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন সরদার বল্লভভাই প্যাটেল। ১৯৪৭ সালের ২৫ জানুয়ারি লেখা এক চিঠিতে তিনি গান্ধীজিকে তাঁর এসব চর্চা পরিত্যাগ করতে বলেন। তিনি আরও বলেন, এসব চর্চা হলো ‘পুরোপুরি কেলেঙ্কারি’ এবং এতে গান্ধীর অনুসারীরা ‘যারপরনাই ব্যথিত’ হবেন।

যদিও মানু তাঁর ৬৮ পৃষ্ঠার স্মৃতিকথার কোথাও গান্ধীর যৌনাচার নিয়ে কথা বলেননি। গান্ধীর এসব আচরণে কেমন বোধ করেছিলেন, তাও তিনি কখনো বলে যাননি।
 

আরো খবর